
জুনাইদ সিদ্দিক, ভিডিও এডিটর
রানওয়ে (Runway), গুগল ভিও (Google Veo), পিকা (Pika) কিংবা ক্লিং (Kling)—বর্তমান সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতে এই নামগুলো যেন এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। এখন শুধু একটি স্ক্রিপ্ট লিখুন, কয়েকটি নির্দেশনা দিন, আর এআই মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিও তৈরি করে দিচ্ছে, অটো সাবটাইটেল যোগ করছে, ভয়েসওভার তৈরি করছে, এমনকি ভিডিও এডিটও করে দিচ্ছে!
এসব দেখে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—"তাহলে কি ভিডিও এডিটরদের আর দরকার হবে না? AI কি ভিডিও এডিটিং ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে?"
একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন। যখন ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে এসেছিল, তখন কি সব ফটোগ্রাফারের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল? কিংবা যখন কম্পিউটার এলো, তখন কি হিসাবরক্ষকদের চাকরি চলে গিয়েছিল? বরং প্রযুক্তি তাদের কাজকে আরও দ্রুত, সহজ এবং কার্যকর করে তুলেছিল।
ঠিক একইভাবে, AI ভিডিও এডিটরদের প্রতিস্থাপন করতে আসেনি; বরং তাদের দক্ষতাকে আরও শক্তিশালী করতে এসেছে।
আগে একটি ভিডিওর সাবটাইটেল তৈরি করা, অডিও পরিষ্কার করা, কালার কারেকশন করা বা ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলা—এসব কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত।
এখন AI কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব কাজ করে দিতে পারে।
ফলে একজন ভিডিও এডিটরকে আর বারবার একই ধরনের কাজ করতে হয় না। তিনি এখন বেশি সময় দিতে পারেন ভিডিওর গল্প বলার কৌশল, দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার টেকনিক এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার দিকে।
অর্থাৎ AI ভিডিও এডিটিংকে ধ্বংস করছে না; বরং এর কাজের ধরণকে আরও আধুনিক করে তুলছে।
প্রযুক্তি যত উন্নত হোক, কিছু বিষয় সবসময় মানুষের হাতেই থাকবে।
একটি ভিডিওর কোন অংশে আবেগ তৈরি হবে, কোথায় উত্তেজনা বাড়বে, কোথায় দর্শককে অবাক করতে হবে—এসব AI পুরোপুরি বুঝতে পারে না।
বাংলাদেশি দর্শক কী ধরনের ভিডিও পছন্দ করে, কোন ধরনের কাট বা ট্রানজিশন বেশি আকর্ষণীয় লাগে—এগুলো একজন অভিজ্ঞ এডিটরই ভালো বোঝেন।
প্রতিটি ব্র্যান্ডের নিজস্ব ভাষা ও স্টাইল থাকে। সেই অনুযায়ী ভিডিওর টোন, কালার, মিউজিক এবং এডিটিং স্টাইল নির্ধারণ করা AI-এর জন্য সহজ নয়।
AI বিদ্যমান ডেটা বিশ্লেষণ করে কাজ করে। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন কোনো ধারণা, নতুন কোনো উপস্থাপনা বা ভাইরাল হওয়ার মতো ব্যতিক্রমী কনসেপ্ট সাধারণত মানুষের মস্তিষ্ক থেকেই আসে।
সত্যিটা হলো—AI ভিডিও এডিটরদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না।
তবে যারা নতুন প্রযুক্তি শিখতে আগ্রহী নয়, পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে চায় না, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে।
আগামী দিনের সফল ভিডিও এডিটর হবেন তিনি, যিনি ভিডিও এডিটিংয়ের মৌলিক দক্ষতার পাশাপাশি AI টুলস ব্যবহার করতেও জানবেন।
কারণ ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলো শুধু ভিডিও এডিটর খুঁজবে না; তারা খুঁজবে "AI-সক্ষম ভিডিও এডিটর"।
পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবই নতুন সুযোগ তৈরি করে।
AI-কে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার পরিবর্তে, তাকে নিজের দক্ষতার অংশ বানান। তখন একই সময়ে আপনি আরও বেশি কাজ করতে পারবেন, আরও ভালো মানের কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং ক্যারিয়ারে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন।
আপনিও কি AI Video Editing, Cinematic Content Creation এবং আধুনিক ভিডিও প্রোডাকশনের দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চান?
প্রফেশনাল গাইডলাইনে ভিডিও এডিটিং, AI Video Creation, Prompt Engineering এবং Content Production শিখতে আজই যোগাযোগ করুন Content Creation Institute-এর সাথে। আমাদের কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের পেইজে ইনবক্স করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।