প্রযুক্তির দুনিয়ায় আজকাল সবচেয়ে বড় আলোচনা কোনটা বলুন তো? নিশ্চিতভাবেই সেটা এআই (AI)। বিশেষ করে যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ফ্রিল্যান্সিং বা আইটি সেক্টরে কাজ করছেন, তাদের জন্য টেক জায়ান্ট গুগল নিয়ে এলো বছরের সবচেয়ে বড় চমক—Gemini AI Avatar।
একবার ভাবুন তো, আপনার একটি জরুরি কন্টেন্ট বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিডিও তৈরি করা দরকার, কিন্তু আপনার কাছে ভালো ক্যামেরা নেই, লাইটিং সেটআপ নেই, এমনকি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো পর্যাপ্ত সময়ও নেই। কেমন হতো, যদি আপনার জায়গায় হুবহু আপনার মতোই দেখতে একজন ডিজিটাল মানুষ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিখুঁতভাবে পুরো স্ক্রিপ্টটি বলে দিত?
শুনতে কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও, গুগল ঠিক এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে তাদের নতুন জেমিনি এআই অবতার (Google Gemini AI Avatar) ফিচারের মাধ্যমে!
সহজ কথায়, এটি গুগলের এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যেখানে যে কেউ চাইলে নিজের একটা ছবি এবং নিজের গলার ভয়েস বা সাউন্ড ব্যবহার করে একদম নিজের মতো দেখতে একটি এআই অ্যানিমেটেড অবতার (Avatar) তৈরি করে নিতে পারবেন।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এই টেকনোলজি তো আগেও বাজারে ছিল। কিন্তু গুগলের এই নতুন আপডেটের বিশেষত্ব হলো এর অবিশ্বাস্য 'হিউম্যান এক্সপ্রেশন' এবং 'ভয়েস ম্যাচিং'। আপনি শুধু আপনার টেক্সট বা স্ক্রিপ্টটি লিখে দেবেন, আর আপনার সেই ডিজিটাল অবতারটি একদম আপনারই মতন হাত-পা নেড়ে, চোখের পলক ফেলে হুবহু আপনার কণ্ঠস্বরে চমৎকার সব ভিডিও তৈরি করে দেবে! সাধারণ চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ভিডিওর মানুষটি আসল নাকি এআই প্রযুক্তির তৈরি। যারা নিয়মিত ফেসলেস ভিডিও বানান, অনলাইন ক্লাস নেন কিংবা অফিশিয়াল প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন, তাদের জন্য এই ফিচারটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে।
গুগলের এই দারুণ ফিচারটি সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার স্বার্থে একটু ভিন্নভাবে কাজ করে, যাতে আপনার ছবি বা ভয়েস অন্য কেউ অপব্যবহার করতে না পারে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে নিজেদের এআই অবতার সেটআপ করে নিতে পারবেন:
ধাপ ১ (জেমিনি ড্যাশবোর্ড): প্রথমেই আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে গুগল জেমিনি (Gemini)-তে প্রবেশ করুন এবং নতুন Avatar অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ধাপ ২ (QR কোড স্ক্যান): জেমিনিতে ক্লিক করার পর স্ক্রিনে একটি ইউনিক QR Code ভেসে উঠবে। আপনার স্মার্টফোনটি দিয়ে এই কিউআর কোডটি স্ক্যান করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, আপনার মোবাইলে অবশ্যই কম্পিউটারের সেই একই জিমেইল (Gmail) অ্যাকাউন্টটি লগইন থাকতে হবে।
ধাপ ৩ (ফেস আইডি ও অ্যাঙ্গেল ভেরিফিকেশন): কোডটি স্ক্যান করে জিমেইলে কনফার্ম করার সাথে সাথেই আপনার মোবাবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরাটি ওপেন হয়ে যাবে। এবার স্ক্রিনের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার চেহারা বা ফেসটি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ঘোরাতে হবে—কখনো ডান থেকে বামে, কখনো বাম থেকে ডানে, আবার কখনো সামনে-পেছনে। এতে এআই আপনার থ্রি-ডি (3D) ফেস স্ট্রাকচারটি নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে নেবে।
ধাপ ৪ (ভয়েস ম্যাচিং ও রিডিং): ফেস ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি মোবাইলের স্ক্রিনে কিছু নির্দিষ্ট অক্ষর বা লেখা ভেসে উঠবে। আপনার নিজের আসল কণ্ঠস্বর রেকর্ড করার জন্য সেই লেখাগুলো একটু জোরে জোরে স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
ধাপ ৫ (ফাইনাল কনফার্মেশন): এই ধাপগুলো সঠিকভাবে শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি একটি চূড়ান্ত ভেরিফিকেশনে চলে যাবে। মোবাইল স্ক্রিনে কনফার্মেশন সফল হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের জেমিনি ড্যাশবোর্ডে আপনার নিজস্ব এআই অবতারটি যুক্ত হয়ে যাবে!
প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির যুগে কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যম বদলে যাচ্ছে চোখের পলকে। এখন আর দামি গ্যাজেট বা দামি ক্যামেরার অভাব সফলতার পথে বাধা নয়; বরং নতুন এই এআই টুলগুলোকে যারা যত দ্রুত এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের কাজে লাগাতে পারবেন, আগামী দিনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বাজার থাকবে তাদেরই দখলে। প্রযুক্তির সাথে যুদ্ধ না করে, প্রযুক্তিকে নিজের হাতিয়ার বানিয়ে নেওয়াই আসল বুদ্ধিমত্তা।
গুগল জেমিনির এই নতুন এআই অবতার প্রযুক্তির মতো আইটি এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন জগতের নিত্যনতুন সব অ্যাডভান্সড টুলস ও টেকনিক প্রফেশনালি শিখতে চান? প্রযুক্তির এই রেসে নিজেকে সবার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে আজই যোগাযোগ করুন কনটেন্ট ক্রিয়েশন ইনস্টিটিউট-এর সাথে। আমাদের আধুনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ভিডিও এডিটিং এবং এআই-বেসড অ্যাডভান্সড কোর্সগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন অথবা সরাসরি আমাদের ফেসবুক পেইজে মেসেজ দিন।